You are here
Home > Uncategorized > ক্যাসিনোর মাধ্যমে সম্রাটদের অবৈধ সম্পদ, অনুসন্ধানে দুদক

ক্যাসিনোর মাধ্যমে সম্রাটদের অবৈধ সম্পদ, অনুসন্ধানে দুদক

অবৈধ ক্যাসিনোর মাধ্যমে যাঁরা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি। দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত তদারক কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান।
মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, ‘ক্যাসিনোর মাধ্যমে যে বা যাঁরা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আজই দুদকের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
কারা কারা এই অনুসন্ধানের আওতায় আসছেন, সে বিষয়ে কারও নাম উল্লেখ করেনি দুদক। তবে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাসিনো–কাণ্ডে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের সবাইকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। এ সংখ্যা ১০০ জনের মতো হতে পারে।
সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের প্রেসিডেন্ট শফিকুল আলম ফিরোজ, কাউন্সিলর মমিনুল হক সাইদসহ তাঁদের সব সহযোগীকে এই অনুসন্ধানে আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রকাশিত সব খবর বিশ্লেষণ ও নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিটের মাধ্যমে নেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। অভিযানের প্রথম দিনেই অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আটক হন সাঁড়াশি অভিযানে। বেরিয়ে আসে নানা পর্যায়ের নেতার নাম।
২০ সেপ্টেম্বর র‍্যাবের হাতে আটক হন ঠিকাদার ও যুবলীগের নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম)। বিপুল অর্থ উদ্ধার করা হয় তাঁর অফিস থেকে। হাজার হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেওয়া শামীমের সঙ্গে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য আসে গণমাধ্যমে। ইতিমধ্যেই এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তের জন্য গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন অনেকেই। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং যুবলীগের নেতা ইসমাইল হোসেনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। এ ছাড়া আটক যুবলীগের নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজ ও রিমান্ডে থাকা যুবলীগের নেতা জি কে শামীমের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের স্ত্রী, মা অথবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো নামে হিসাব থাকলে তা–ও স্থগিত করা হয়েছে। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় এসব হিসাব ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঘুষ লেনদেনের তথ্য থাকায় গণপূর্তের সাবেক দুই প্রকৌশলীর ব্যাংক হিসাবও চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
দুর্নীতিসহ অপরাধের বিভিন্ন তথ্য থাকায় ইসমাইল হোসেন চৌধুরীসহ ১৪ নেতার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক ও বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ আছে।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী, খালেদ মাহমুদ, কাউন্সিলর মমিনুল হক সাইদসহ যুবলীগের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের লোকজন এই ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ক্যাসিনো ব্যবসা করে অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার তথ্যও বেরিয়ে এসেছে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে অনেক ভিআইপি ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর নাম। দুদক এঁদের সবারই সম্পদের অনুসন্ধান করবে বলে জানা গেছে।
দুদকের তথ্যমতে, ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও তাঁদের পৃষ্ঠপোষকদের পাশাপাশি সরকারি অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও উঠে আসছে। তাঁদেরও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে গণমাধ্যমে আসা সব তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক। একই সঙ্গে ওই সব বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতাও চালিয়েছে। গণমাধ্যমে আসা তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে ইতিমধ্যে একটি তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকা ধরেই অনুসন্ধানে নেমেছে তারা।

adm

Similar Articles

Leave a Reply

Top